Latest News

ঔদ্ধত্যের চরম সীমা: সাধারণ যাত্রীদের "আবাল" গালি দিলেন আজিমনগর স্টেশনের সরকারি মাস্টার মুসাফির ফয়সাল!

09 June, 2026

নাটোর প্রতিনিধি

ঔদ্ধত্যের চরম সীমা: সাধারণ যাত্রীদের "আবাল" গালি দিলেন আজিমনগর স্টেশনের সরকারি মাস্টার মুসাফির ফয়সাল! (Part-1)

ক্যাটাগরি: জাতীয় / রেলওয়ে / অপরাধ
তারিখ: ৯ জুন, ২০২৬

নাটোর প্রতিনিধি:

জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পেয়ে সরকারি চেয়ারে বসে সাধারণ মানুষকে চরম নোংরা ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে নাটোরের আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনের নামধারী পেজ ('আজিমনগর - Azimnagar') এবং এর পেছনে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মুসাফির ফয়সাল-এর বিরুদ্ধে। সরকারি কর্মচারীর এমন অপেশাদার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সারা দেশের রেলপ্রেমী ও সাধারণ যাত্রীরা। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ:

আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ পুনর্বহালের জন্য দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও যাত্রীরা যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই নাগরিক দাবির প্রেক্ষিতে স্টেশন মাস্টার মুসাফির ফয়সাল-এর নিয়ন্ত্রণাধীন ফেসবুক পেজ থেকে প্রথমে সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশ্যে ট্রোল করে অত্যন্ত আপত্তিকর একটি পোস্ট করা হয়, যেখানে লেখা ছিল—"ট্রেন কি ওনাদের বাবার সম্পত্তি!!" , "আমরা ফ্রিতে মলম দেওয়ার জন্য রেডি আছি।"

সরকারি পদের দেমাগ ও অসভ্য আচরণ:

এই আপত্তিকর পোস্টের নিচে যখন সাধারণ সচেতন যাত্রীরা নিয়মতান্ত্রিক ও যৌক্তিক প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন, তখন কমেন্ট বক্সে পরিস্থিতি আরও নোংরা রূপ নেয়। প্রতিবাদী নাগরিকদের সরাসরি "দালাল", "তেলবাজ" এবং "ফেক আইডি" বলে কটূক্তি করা হয়। এখানেই শেষ নয়, সরকারি পদের অহংকার দেখিয়ে কমেন্টে আরও বলা হয়—"পারলে আমাদের মতো সরকারি কর্মচারী হয়ে দেখান।"

সর্বশেষ সমস্ত ভদ্রতা, নৈতিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সীমা লঙ্ঘন করে প্রকাশ্য কমেন্ট বক্সে সাধারণ রেলপ্রেমী যাত্রীদের সরাসরি "যত সব আবাল" বলে চূড়ান্ত অপমানজনক গালি দেওয়া হয়।

আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ:

সচেতন নাগরিকদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তা (Public Servant) হিসেবে মুসাফির ফয়সালের এই আচরণ সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি স্পষ্টতই 'সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা'-র পরিপন্থী এবং সাইবার মাধ্যমে নাগরিকদের হেনস্তা করার কারণে এটি ডিজিটাল/সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রমাণ

আজিমনগর স্টেশন মাস্টারের আপত্তিকর পোস্ট, মেসেজ ও কমেন্টের স্ক্রিনশট:

ঔদ্ধত্যের চরম সীমা: সাধারণ যাত্রীদের "আবাল" গালি দিলেন আজিমনগর স্টেশনের সরকারি মাস্টার মুসাফির ফয়সাল! (Part-2)

তীব্র ক্ষোভ ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন মহলে তোলপাড়:

ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমস্ত আপত্তিকর মন্তব্য ও ট্রোলের স্পষ্ট স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দেশের রেলপ্রেমী বিভিন্ন সুপরিচিত ফেসবুক গ্রুপ একজোট হয়ে এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। 

ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি—"জনগণের টাকায় বেতন নিয়ে যারা জনগণের সাথে এমন জমিদারের মতো আচরণ করে, তাদের অবিলম্বে সরকারি চেয়ার থেকে অপসারণ করা হোক।" ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে অভিযুক্ত স্টেশন মাস্টার মুসাফির ফয়সালের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

নাগরিকদের 'বাপ তুলে' গালি ও চাটুকারিতাকে অফিশিয়াল সমর্থন

স্টেশন মাস্টার মুসাফির ফয়সালের পেজটি শুধু যাত্রীদের গালিগালাজই করেনি, বরং সাধারণ নাগরিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে বানরের কুৎসিত ছবি দিয়ে ট্রোল করেছে। একই সাথে বহিরাগত চাটুকারদের (Noyan Noyan) কমেন্টকে সমর্থন জানিয়ে সাধারণ আন্দোলনকারীদের স্টেশন চত্বরে ডেকে এনে শায়েস্তা করার পরোক্ষ হুমকি দিয়েছে।

নাগরিকদের 'বাপ তুলে' গালি ও চাটুকারিতাকে অফিশিয়াল সমর্থন

আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনের নামধারী পেজটির অপেশাদার ও নোংরা আচরণ এখন সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। সাধারণ রেলযাত্রীরা যখন স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ পুনর্বহালের মতো সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও নাগরিক অধিকারের দাবি তুলছেন, তখন এই সরকারি পেজ থেকে শুধু যে তাদের "আবাল" বা "দালাল" বলে গালি দেওয়া হয়েছে তা-ই নয়; বরং উগ্র চাটুকার ও বহিরাগতদের নোংরা মন্তব্যকে অফিশিয়ালি বাহবা দেওয়া হচ্ছে।সংযুক্ত প্রমাণটিতে (স্ক্রিনশট) দেখা যাচ্ছে, 'সাদিক রায়হান অপু' নামের এক ব্যক্তি আন্দোলনকারী সাধারণ নাগরিকদের তীব্র উপহাস করে এবং তাদের "বাপ তুলে" অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় কমেন্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন—"ওদের বাপেরই তো সম্পত্তি, ওদের বাপ কালচে এভাবে ঘাওকাও করতে থাকে চেঁচাতে থাকে কাজ হলেও হতে পারে।"একজন সচেতন নাগরিক যেখানে এই নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাতেন, সেখানে এই সরকারি স্টেশনের পেজটি (যা স্টেশন মাস্টার মুসাফির ফয়সাল পরিচালনা করছেন) উল্টো সগৌরবে এবং অত্যন্ত আনন্দের সাথে সেই চাটুকারিতাকে অফিশিয়ালি সমর্থন জানিয়ে রিপ্লাই দিয়েছে: "সাদিক রায়হান অপু ঠিক 🎯"।জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পেয়ে, সরকারি চেয়ারে বসে সাধারণ নাগরিকদের অধিকার চাওয়াকে এভাবে চাটুকারদের সাথে একজোট হয়ে "বাপ তুলে" তাচ্ছিল্য করা এবং সেই নোংরামিকে অফিশিয়াল স্বীকৃতি দেওয়া চরমতম প্রশাসনিক অপরাধ। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার (Public Servant) এমন কুরুচিপূর্ণ মানসিকতা পুরো বাংলাদেশ রেলওয়ের ভাবমূর্তিকে জনসাধারণের সামনে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।

চাটুকারদের কমেন্টে স্টেশন মাস্টারের ব্যক্তিগত আইডির সমর্থন

এই নোংরামি ও নাগরিক হেনস্তার পেছনে যে স্বয়ং আজিমনগর স্টেশনের দায়িত্বরত স্টেশন মাস্টার মুসাফির ফয়সাল সরাসরি জড়িত, তা এবার হাতেনাতে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আর পেজের আড়ালে লুকিয়ে না থেকে, সরাসরি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সাধারণ যাত্রীদের অপমান করা শুরু করেছেন।

নিচের সংযুক্ত প্রমাণটিতে দেখা যাচ্ছে, 'Md Tohidul Islam' নামের এক চাটুকার ব্যক্তি আন্দোলনকারী সাধারণ নাগরিকদের তীব্র উপহাস ও কটূক্তি করে তাদের দাবিকে 'হিংসা' বলে মন্তব্য করেছেন। আর এর নিচে স্টেশন মাস্টার মুসাফির ফয়সাল তাঁর নিজের ব্যক্তিগত ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি (Musafir Faysal) থেকে এসে সগৌরবে লিখেছেন: "সহমত পোষণ করলাম ❤️"। একজন সরকারি কর্মকর্তা (Public Servant) হয়ে সাধারণ নাগরিকদের যৌক্তিক দাবিকে উপহাস করা চাটুকারকে ব্যক্তিগত আইডি থেকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়া চরম প্রশাসনিক অসদাচরণ ও আচরণ বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।

প্রমাণ (২)

নাগরিকদের 'বাপ তুলে' গালি দেওয়া চাটুকারকে সরকারি পেজ থেকে সমর্থন দেওয়া চরম অপরাধ। জনগণের টাকায় বেতন পেয়ে এই জমিদারি আচরণ রেলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।   

.